বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার মূল ১০টি কারণ ও সমাধান জেনে নিন

বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার মূল ১০টি কারণ ও সমাধান ছবি
বই পড়ার অভ্যাস আমরা মানুষ হিসেবে কারো একটু বেশি এবং কারো কম থাকে। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে একজন মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক জীবন যাপন কেমন তার উপর। সুতরাং যে কেউ চাইলে একটি বই যে কোন সময় পড়তে পারে না। যদি ও কোন রকম একটি বই জোগাড় করি। তবে তা নানা কারণে আমাদের সামনে বাঁধা হিসেবে দাড়ায়। আমরা চাইলেই পড়ার চর্চা গুলো ফিরেয়ে আনতে পারি। যদি বলেন কিভাবে, তবে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার কারণ জেনে এই প্রতিবেদনটি পড়ার মাধ্যমে। কারণ আমরা যদি বই পড়ার অভ্যাস গুলোর কমে যাওয়ার কারণ বের করতে পারি তবেই আমরা বই পড়ার অভ্যাস হারানোর কারণ জেনে এর সমাধান নিয়ে আসতে পারব। 

কমে যাওয়ার কারণ

বই পড়ার অভ্যাস হল এক ধরনের নেশার মত। আর এটি কমে যাওয়ার সমাধান হল এর বদ অভ্যাস গুলো থেকে বিরত থাকা। যা একজন মানুষের সুদীর্ঘ অভ্যাসের কারণে তৈরি হয়। আর এটি কমে যায় আমাদের মধ্যে গড়ে ওঠা বদ অভ্যাস গুলোর কারণে। তাই বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে এবং কারণ জানতে আসুন প্রতিবেদনটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ি। নিচে সেই বদ অভ্যাস গুলো দেওয়া হল:

১. পড়তে অনিহা: পড়তে অনিহা একটি পড়ালেখার জগতে কমন সমস্যা। কোন রকম কারণ ছাড়াই যে কেউ এটিতে অপারগতা দেখায়। তার সময় আছে তবু পড়তে মন বসে না। সহজ বাংলায় বলতে গেলে ইচ্ছে নেই। তবে পড়ার অভ্যাস এর ব্যাপারে এমন বদ অভ্যাস না থাকাই ভালো। যখন পড়তে ইচ্ছে করে তখন পড়তে বসা এবং পরে পড়ব এমনটি মনে না করা।  

২. সময়ের অভাব: পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার মূল কারণ হলো সময়ের অভাব। এটি প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক একটি সমস্যা। কোন কারণ ছাড়াই সারাদিন এদিকে ওদিকে ঘুরে বেড়ায় বা কাজে পড়ার সময় পায় না। তাই এটি থেকে উদ্ধারের পথ হল নিয়ম অনুযায়ী পড়া এবং সময় করে পড়তে বসা। 

৩. একই রকম বই পড়া: একই রকম বই পড়া মানে এক বিষয়ের উপর পড়া, অন্য কোন বিষয়ে বই না পড়া। যার কারণে বই পড়া এক ধরনের একঘেয়েমিতে পরিণত হয় এবং পড়ার অভ্যাস কমে যায়। তাই একই রকম বই না পড়ে সকল বিষয়ের উপর বই পড়ার অভ্যাস করা। তাহলেই দেখবে পড়ার উপর আগ্ৰহ জম্মাবে। 

৪. খাবারের অভ্যাসগত কারণ: খাবারের অভ্যাসগত কারণ হল এমন সব খাবার খাওয়া, যে সকল খাবার খাওয়ার পর ঘুম চলে আসে এবং শরীর ভারী হয়ে যায়। যেমন: পড়ার সময় ভাত খেয়ে ফেলা, কোন ওষুধ খেয়ে ফেলা যে সকল ঔষধ খেলে ঘুম আসে, যেমন ঠান্ডার ঔষধ হিসটাসিন ও 10mg এর ঔষধ গুলো খেলে ঘুম আসে। তাই আপনার শরীর ভারী করে এমন খাবার খাওয়ার অভ্যাস না করা। 


৫. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার: সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার মানে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এর মধ্যে চ্যাটিং করা, পোস্ট করা, ভিডিও ও ছবি দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় অধিক সময় ব্যয় করা। যার ফলে হারিয়ে যায় বই পড়ার অভ্যাস। তাই বই পড়ার সময় বের করা এবং বাকি সময় বা কম সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা। 

৬. নির্দিষ্ট রুটিন না থাকা: নির্দিষ্ট রুটিন না থাকা একটি আলসেমির বড় উদাহরণ। সারা দিন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সময় নষ্ট করি এবং পরে বলি আজকে পড়ার সময় পেলাম না। তাই আপনি কোন সময় পড়তে চান বা আপনার সময় অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট রুটিন করা এবং রুটিন মাফিক পড়তে বসা। এর ফলে পড়ার অভ্যাস আবার বাড়বে।

৭. জ্ঞান অর্জনের আগ্ৰহ কমে যাওয়া: জ্ঞান অর্জনের আগ্ৰহ কমে যাওয়া মানে পড়ার সময় জ্ঞান অর্জনের নিয়তে পড়তে না বসা। যা পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার মূল কারণ। আপনি প্রতিদিন পড়তে বসছেন কিন্তু পড়ার সময় বই পড়লে যে একটি মজা পাওয়া যায় তা পাচ্ছেন না এবং পড়ার অভ্যাস আসতে আসতে কমে যাচ্ছে। তাই যখন বই পড়তে বসবেন তখন বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করব এই নিয়তে পড়তে বসেন। দেখবেন আবার নতুন করে বই পড়ার অভ্যাস বেড়ে যাবে।

৮. কোন কিছুর সমাধান না পাওয়া: এটি মূলত বই পড়ে বেনিফিট বা ফলাফল না পাওয়া কে বোঝায়। যদি আপনি কোন একটি বিশেষ বই পড়ছেন এবং এটি থেকে কোন কিছু জানতে পারছেন না বা বুঝতে পারছেন না। তাহলে পড়ার অভ্যাস কমে যেতে পারে। যেমন আপনি অংক করছেন এবং অংক করতে পারছেন না বা বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ছেন সেটা বুঝতে পারছেন না। এমনটি আপনার ক্ষেত্রে দেখা দিলে ঐ সকল বিষয়ের বই গুলো পরে পড়া এবং যে বিষয়ের উপর আপনি পারদর্শী সেই বই পড়া এবং উক্ত বিষয়ের বই গুলো অন্য কারো কাছে বুঝিয়ে নেওয়া। অথবা স্যারের কাছে গিয়ে বুঝিয়ে নেওয়া। এই ক্ষেত্রে কালীপ্রসন্ন ঘোষের একটি কবিতা মনে পড়ে, সেটি হলো:

পারিব না কথাটি বলিও না আর 
কেন পারিবে না তাহা দেখ একবার 
  পাঁচজনে পারে যাহা 
তুমি ও পারিবে তাহা 
পার কি না পার কর যতন আবার
একবার না পারলে দেখ শতবার। 

৯. সময়ের কাজ সময়ে না করা: এটি মূলত সময়ের অবহেলা কে বোঝানো হয়। যদি কারো মাঝে সময়ের গুরুত্ব না থাকে, তাহলে সেই সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন অভ্যাস গড়ে উঠে। যেমন: গোসল করা ৩টার সময়, খাওয়া ৪টায়, বিকালে পড়তে বসব বলে মাঠে খেলতে যাওয়া, রাতে পড়ালেখা বাদ দিয়ে টিভি দেখা ও গেম খেলা ইত্যাদির মাধ্যমে নিজের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করা এবং এক পর্যায়ে গিয়ে পড়া বেশি হয়ে গেলে না পড়া। এভাবেই বই পড়ার অভ্যাস কমে যায়। তাই সময় কে মূল দিয়ে গুরুত্বের সাথে সঠিক সময় কাজ করা এবং এর মধ্য থেকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।

১০. শর্টকাট পন্থা অবলম্বন করা: শর্টকাট পন্থা অবলম্বন করা বলতে একটি বইয়ের সকল কিছু না পড়ে পছন্দ অনুযায়ী বই এর অংশ গুলো কে পড়া। এই রকম বদ অভ্যাস যদি আপনার মধ্যে গড়ে উঠে তাহলে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাবে। তাই যে কোন বই পড়ার ক্ষেত্রে একটি বই এর সকল অংশ গুলো খুব ভালো ভাবে এবং মনযোগ সহকারে পড়া। 

উপসংহার

পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকলে ও উপরে উল্লেখিত কারণ গুলো মূল কারণ হিসেবে ধরা যায়। তবে আমাদের মাঝে এই সকল কারণ ছাড়া ও বিভিন্ন কারণে অভ্যাস গুলো কমে যেতে পারে। তাই আপনার মাঝে এমন কোন বদ অভ্যাস থাকলে যা বই পড়ার চর্চা কে কমিয়ে দেয়। তাহলে ঐ সকল কারণ গুলো ত্যাগ করে নতুন করে বই পড়া শুরু করতে হবে।

শেষ কথা: আসা করি আজকের বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার কারণ জেনে আবার নতুন উদ্যমে বই পড়া শুরু করতে পারবেন। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, তাই আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করুন। আসসালামুয়ালাইকুম, ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url