চিনি গাছ: স্টেভিয়া

চিনি গাছ এর ছবি
স্টেভিয়া গাছের পাতা শুকালে পাওয়া চিনি, তাই এই গাছ কে চিনি গাছ বলে। স্টেভিয়া ইংরেজিতে (Stevia), বাংলায় চিনি গাছ হিসেবে পরিচিত। স্টেভিয়া একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এর পাতা খুবই সুমিষ্ট হওয়ায় চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই গাছ ৬০-৮০ সে.মি উঁচু হয়ে থাকে। এটি একটি ছোট সাইজের গাছ। স্টেভিয়ার বৈজ্ঞানিক নাম Stevia Rebaudiana এটি compositae পরিবার ভুক্ত একটি গাছ। চলুন এটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়। 

উৎপত্তি ও চাষ

স্টেভিয়া পাতা ঔষধি গুণাগুণ এবং ডায়াবেটিক রোগীদের চা তৈরিতে চিনির বিকল্প হিসেবে স্টেভিয়া প্রজাতির প্রাকৃতিক মিষ্টি সমৃদ্ধ উদ্ভিদের চাষ হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের সুগার ক্রপস্ গবেষণা কেন্দ্রে। এ উদ্ভিদ মানব দেহের বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জানা গেছে, এ গাছটির আদি উৎপত্তি স্থল প্যারাগুয়ে। ওই দেশে ১৯৬৪ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে স্টেভিয়ার চাষ শুরু হয়। বর্তমানে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, কোরিয়া, মেক্সিকো, থাইল্যান্ড ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে দুর্লভ এ প্রজাতির স্টেভিয়ার ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে। ২০০১ সালে বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট মানব দেহের উপকারী এই উদ্ভিদটি থাইল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করে। দীর্ঘ গবেষণার পর পাবনার ঈশ্বরদী ও ঠাকুরগাঁওয়ে স্টেভিয়া বা মিষ্টি পাতা প্রজাতির উদ্ভিদের চাষ শুরু হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সুগার ক্রপস গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরিফুল ইসলাম জানান, স্টেভিয়া প্রজাতির এ উদ্ভিদের পাতা চিনি অপেক্ষায় ৬০ গুণ মিষ্টি। এটি প্যারাগুয়ের পাহাড়ি এলাকায় মেলে। তবে বর্তমানে এটি বাংলাদেশের বিভিন্ন নার্সারিতে পাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও বাজারে অনেক কম্পানি স্টেভিয়া পাতা ক্রাস করে ছোট ছোট বোতলে ভরে ব্যবসা করছে। ফলে আপনি নিকটস্থ দোকান গুলোতে খোঁজ করলে স্টেভিয়া গুঁড়া পেয়ে যাবেন। এছাড়াও বাংলাদেশের রাজশাহীতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় বানিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ শুরু করেছে। 

স্টেভিয়ার উপকারিতা 

ক্যালরিমুক্ত এ মিষ্টি ডায়াবেটিক রোগী সেবন করলে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ পরিবর্তন হয় না। এ ছাড়া রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণসহ দাঁতের ক্ষয় রোধ ও ত্বকের কোমলতা এবং লাবণ্য বৃদ্ধি করে উদ্ভিদের উপাদান। তিনি আরও জানান, বছরের ৯ মাস টবে অথবা মাটিতে এর চাষ করা সম্ভব। পৃথিবীর অনেক দেশে এর পাতা বিক্রি করে প্রচুর অর্থ উপর্জান করছেন অনেকেই। জাপান, চীন ও কোরিয়াতে স্টেভিয়া প্রজাতির বিভিন্ন খাবার ও ঔষধ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্টেভিয়া সকল প্রকার মিষ্টি জাতীয় খাবার দাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে চিনির বিকল্প হিসেবে কাজ করছে এই স্টেভিয়ার পাতার গুঁড়া। আর এটি চিনিতে যত ক্ষতি করছে, তার চেয়ে ও ষাট গুণ উপকারিতা বেশি মিষ্টি এবং উপকারিতা পাওয়া দিন দিন এটি উপর মানুষের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি চিবিয়ে ও খাওয়া যায়। এর নির্যাস একেবারেই নিরাপদ। 

চিনি গাছ: স্টেভিয়া এর ছবি 

চিনি গাছ: স্টেভিয়া এর ছবি
চিনি গাছ বা স্টেভিয়া

উপসংহার

আসা করি, আজকের এই প্রতিবেদনটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আসুন আমরা বেশি করে স্টেভিয়া বা চিনি গাছ লাগায় এবং চিনির বিকল্প হিসেবে গ্ৰহণ করি। কারণ স্টেভিয়া হলে চাষ, ডায়াবেটিস হবে শেষ। স্টেভিয়াতে চিনির পরিমাণ বেশি থাকলে ও এটি দেহের কোন রুপ ক্ষতি সাধন করে না বরং অনেক উপকারী একটি স্টেভিয়ার পাতা। 

শেষ কথা: আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, তাই আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। আসসালামুয়ালাইকুম, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url