ডেভিন: প্রথম এআই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

ডেভিন: প্রথম সেরা এআই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার
এআই ব্যবহার করে প্রতি নিয়ত বিভিন্ন প্রযুক্তি ভিত্তিক কোম্পানি গুলো তাক লাগানো এআই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে চলেছে। সেই ধারায় যুক্ত হল ডিভেন। ডেভিন হল বিশ্বের প্রথম এআই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, যা কগনিশন কোম্পানি কর্তৃক প্রকাশিত। যাকে বাংলায় বলা হচ্ছে, সবচেয়ে ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার প্রকৌশলী। এটি মানুষের মতো করে, একজন প্রকৌশলী যেমন করে একটি ওয়েবসাইট বা সফটওয়্যার তৈরি করে, ঠিক তেমনি করে এই এআই সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও কাজ করে। 

কগনিশন আরো যোগ করে যে, এটি কোড লেখা, কোড সংশোধন, কার্যকরী ওয়েবসাইট তৈরি এবং ভিডিও স্থাপন পর্যন্ত। সকল উন্নয়ন প্রক্রিয়া কে একসাথে তুলে ধরে। তাই এটি প্রয়োজনীয় সময় এবং কোডিং বা ওয়েবসাইট ডিজাইনের পিছনে অতিরিক্ত সময় হ্রস করে। চলুন এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়!

ডেভিন এর প্রতিষ্ঠাতা বা সিইও কে

কগনিশন হল এআই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। যার কাজ এআই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা। আর এই কগনিশন কোম্পানির স্বায়ত্তশাসিত বিশ্বের প্রথম এআই সফটওয়্যার প্রকৌশলী diven। কগনিশন কোম্পানি ডেভিন এর প্রতিষ্ঠাতা বা সিইও হল স্কট উ এবং কোম্পানির প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা। এই সফটওয়্যারটি প্রকৌশলীটি স্কট উ এর নেতৃত্বে ডেভেলপ করা হয়েছে। তিনি একজন মানব সফটওয়্যার প্রকৌশলী। স্কট উ সবার সামনে এক এক্স বার্তায় এর সম্পর্কে একটি মেসেজ এর মাধ্যমে জানান এবং তাদের কগনিশন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এর প্রতিষ্ঠাতা ডিভেন সর্ম্পকে বিস্তারিত ধারণা দেন। 

ডেভিন কীভাবে কাজ করে

ডেভিন এর রয়েছে কমাইন্ড শেল, প্রোগ্রামিং কোড এডিটর এবং একটি নিজস্ব ব্রাউজার। এই ব্রাউজার দিয়ে রিয়েল টাইম ডাটা কালেক্ট করে এআই প্রকৌশলী সফটওয়্যার টি। ডিভেন একটি প্রসেস এর মধ্য দিয়ে একটি সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট ডেভেলপ করে থাকে। 

কগনিশন অনুসারে, প্রথমে আপনাকে এর উপর আপনার চাহিদা অনুযায়ী একটি ফ্রন্ট বা প্রস্ফেট লিখতে হবে। এর পর ডিভেন আপনার ডাটা, তাঁর নিজস্ব কমাইন্ন্ড শেল এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করবে। দ্বিতীয় ধাপে, সেই অনুযায়ী তার কোড এডিটর এর মাধ্যমে কোড গুলো কে লেখা শুরু করবে এবং সেটিতে থাকা ব্রাউজারের মাধ্যমে গুগল থেকে রিয়েল ডাটা কালেক্ট করে একটি ওয়েবসাইট বা সফটওয়্যার তৈরি করে দেবে আপনাকে। এছাড়াও আপনার কোডিং এর ভিতরে যদি কোন বাগ থাকে, তাহলে সেটির ও সমাধান করে দিবে এই এআই সফটওয়্যার প্রকৌশলী। 

ডেভিন এর ব্যবহার

কগনিশন কোম্পানি কর্তৃক জাননো হয়েছে যে, এটি মানুষের পরিবর্তে কাজ করবে না বরং একজন প্রোগ্ৰামারের সহকারী হিসেবে কাজ করবে এই এআই সফটওয়্যার প্রকৌশলী। এটির ব্যবহার মূলত দুই ভাবে করা যায়, প্রথমটি হল একজন প্রোগ্ৰামার এর কোডিং এর ভিতরে যদি কোন ভূল বা বাগ থাকে তাহলে সেটি ঠিক করে দেবে। আবার দ্বিতীয় হল নতুন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে। এছাড়াও এটি মানুষের কমান্ড দেওয়ার সাথে সাথেই কোডিং লেখা, ভিডিও তৈরি করা এবং সকল ধরনের এ্যানালাইসিস করে মূহুর্তের মধ্যে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সক্ষম। 

এটি মানুষের বিপরীতে কাজ না করে, মানুষ আরো দক্ষতার সাথে কাজ সম্পাদন করতে ব্যবহার করতে পারে। এটি ব্যবহার এর মাধ্যমে যে কেউ অনেক জুনিয়র লেভেলের কাজ গুলো সহজেই করতে পারে। ঠিক তেমনি এর মাধ্যমে অনেকে কোন ধরনের কোডিং জ্ঞান না থাকার পর ও খুব সুন্দর করে কোডিং লিখতে এবং একটি ওয়েবসাইট রান করাতে পারে। যা এটি কে ব্যবহার করার মাধ্যমেই সম্ভব।

ডেভিন এর কর্মক্ষমতা

কগনিশন কোম্পানি ইতিমধ্যেই ডিভেন এর পারফর্মেন্স মূল্যায়ন করেছে বলে জানায় এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। কগনিশন এর তথ্য অনুযায়ী, কগনিশন জানায় “আমরা ডেভিন কে SWE- বেঞ্চে পরীক্ষা করেছি। SWE- বেঞ্চ হল এআই কর্তৃক তৈরিকৃত ওয়েবসাইট গুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা। SWE- বেঞ্চে Django এবং scikit-learn এর মত ওপেন সোর্স প্রকল্পে পাওয়া বাস্তব বিশ্বের GitHub সমস্যার সমাধান করতে বলে। খুবই দক্ষতার সাথে সকল এআই প্রযুক্তি কে পিছনে ফেলে ডিভেন সঠিকভাবে ১৩.৮৬% এর এন্ড টু এন্ড সমস্যার সমাধান করে বলে জানায়।”

SWE- বেঞ্চে অন্যান্য এআই টুলের কর্ম ক্ষমতা যেমন: চ্যাটজিপিটি 3.5 (0.52%), চ্যাট জিপিটি 4 (1.74%), SWE-Llama 7B (3.01%), SWE-Llama 13B (3.97%), Claude 2 (4.80%) এবং এদের সবার থেকে সবচেয়ে বেশি পার্সেন্টটেজ অর্জন করে ডিভেন। যা অন্য সকল এআই প্রযুক্তি থেকে সবচেয়ে ভালো ফলাফল নিয়ে আসে। 

এছাড়াও Diven ইতিমধ্যেই Upwork মার্কেটপ্লেস এর সফটওয়্যার প্রকৌশলীর কাজ সফলতার সাথে শেষ করে। আবার এর সিইওর দেওয়া একটি ভিডিওতে এর ক্ষমতা কতটুকু তা জানিয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে যে, কয়েক মিনিট এর মধ্যে একটি সুন্দর ওয়েবসাইট তৈরি করছে এটি। এর সিইও এর মতে, এআই জগতে ডিভেন হতে পারে পরবর্তী স্তরের একটি ইঞ্জিনিয়ার। যার মাধ্যমে এআই জগতের বিকাশ আরো বাড়বে বলে আসা করছে। এটির শক্তিমত্তা কগনিশন এর মাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেওয়া রয়েছে। 

ডেভিন এর সুবিধা ও অসুবিধা সমুহ 

ডেভিন এর কাজ হল একজন প্রোগ্ৰামারের সহকারী হিসেবে থাকা, কোডিং এর মধ্যে কোন বাগ থাকলে সমাধান করা এবং একটি নতুন ওয়েবসাইট ডেভেলপ করা। এছাড়াও ডিভেন এর কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। তা নিচে দেওয়া হল: 

সুবিধা সমুহ 

১. এটি একজন জুনিয়র লেভেলের প্রোগ্ৰামারের মতো কাজ গুলো করতে পারে। 

২. এটি একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলীর সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারে।

৩. এটি খুব সহজেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইট ডেভেলপ করতে পারে।

৪. এটি অন্যান্য সকল ধরনের এআই প্রযুক্তি গুলো থেকে আলাদা এবং উন্নত। 

৫. এটি একজন মানুষের মত করে ধাপে ধাপে কার্য সম্পাদন করে। 

৬. এটি একজন মানুষের বিপরীতে ২৪ ঘন্টা কাজ করতে পারে। যা একজন মানুষ ৮ থেকে ১২ ঘন্টা করতে পারে।

৭. এটি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে খুবই কম পরিমাণ সময় ব্যয় করে এবং অনেক বেশি পরিশ্রম করে আরো ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার নির্মাণ করতে পারে। 

৮. এটি অনেক মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে। যার ফলে নতুন নতুন মানুষের সফটওয়্যার প্রকৌশলীর ফিল্ডে যুক্ত হবে।

অসুবিধা সমুহ

তেমন কোন খারাপ প্রভাব না থাকলে ও অনেকে চাকরি হারাবার ভয়ে আছে। কারণ একজন ব্যক্তি কোন রকম কোডিং সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ছাড়ায়। একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী হয়ে যেতে পারেন। এর ফলে যারা দক্ষ কোডার রয়েছেন তাঁরা বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে। এর মাধ্যমে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর জগতে প্রোগ্ৰামারদের ভিরে এর বাজার আরো প্রতিযোগিতা পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। ফলস্বরূপ একটু অসুবিধা ও দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি মানুষের লেভেলের মত করে তৈরি করা হয়েছে এবং সক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। 

ডেভিন এর ভবিষ্যৎ 

ডেভিন এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় যে এর রিলিজ এর সময় এবং এর সাথে অন্যান্য টুল গুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা। ইতিমধ্যেই আমরা জানি সকল এআই ওয়েবসাইটের তুলনায় ডিভেন এর পারফর্মেন্স। যা SWE- বেঞ্চে ১৩.৮৬% পেয়ে সবার থেকে এগিয়ে এই এআই সফটওয়্যার প্রকৌশলী। যা সবার থেকে ভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। 

এছাড়াও একজন মানুষের মত করে ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার নির্মাণ করা ও এর ভবিষ্যৎ ভালোর দিকে নিয়ে যায়। যদি ও এটি ট্রায়াল এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এটি সবার কাছে যখন উন্মুক্ত করা হবে। তখন এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরো তথ্য জানা যাবে।

তাই কগনিশন এআই এর সিইও স্কট উ বলেছেন যে, AI চালিত সফটওয়্যার উন্নতিতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্ৰগতির ইঙ্গিত। যার কারণ এটি তার পূর্বশরীদের ছাড়িছে গেছে।

উপসংহার 

ডেভিন রিলিজ হওয়ার পর পরই চারিদিকে হৈচৈ পড়ে গেছে। কারণ এটি কি এবং কতটা মানুষের জন্য ভালো কিছু দিবে সেটার জন্য। তবে এটি যেমন একদিকে মানুষ কে সুবিধা দিবে, অন্য দিকে এর ব্যবহার যে কেউ করার ফলে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর মধ্যে অনেক অদক্ষতা ও বেড়ে যেতে পারে। তবে প্রথম এআই সফটওয়্যার প্রকৌশলী কে সঠিক ভাবে ব্যবহার এবং এর সঠিক জায়গায় ব্যবহার করা ও জরুরি। তা না হলে বিপদের আশঙ্কা ও থেকে যায়। 

শেষ কথা: আসা করি প্রথম এআই সফটওয়্যার প্রকৌশলী সম্পকে আজকের এই প্রতিবেদনটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, তাই আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। আসসালামুয়ালাইকুম, ধন্যবাদ। 

Share this post with everyone

See previous post See next post
No one has commented on this post yet
Click here to comment

of this websitePrivacy Policy Accept and comment. Every comment is reviewed.

comment url