ডায়াবেটিস কেন হয় জেনে নিন

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কেন হয় তার একটি ছবি
আমরা আজকের এই প্রতিবেদনটিতে ডায়াবেটিস কেন হয় তা জানব। তাহলে চলুন শুরু করি। ডায়াবেটিস হল একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ।‌ যা আমাদের শরীরের মধ্যে থাকা অগ্নাশয়ের ইনসুলিন নিঃসরণের মাত্রা কে অস্বাভাবিক করে তোলে বা সঠিক সময় ইনসুলিন নিঃসরণ করতে দেয় না এবং আমাদের দেহে রোগ হয়। ইনসুলিন হল এক ধরনের হরমোন। যা আমাদের খাবার গুলো গ্লুকোজে পরিণত করে এবং দেহে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এই ইনসুলিন অগ্নাশয় থেকে নিঃসরণ হয়। 

ইনসুলিন আমাদের পেটে থাকা খাবার থেকে গ্লুকোজে পরিণত করে এবং আমাদের দেহের শক্তি জোগায়। এভাবে আমাদের দেহে এই কাজ চলমান থাকে সারা জীবন। সুতরাং দেহে যখন ইনসুলিন ঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না বা এটার উৎপাদন আর হয় না এবং শরীরের ডায়াবেটিস হওয়ার লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায়। তখনি সেটা কে আমরা ডায়াবেটিস বলে থাকি। 

আবার আমরা শরীরে ডায়াবেটিস মাপাতে গেলে শরীরের বায়াবেটিসের মাত্রা ৭ এর উপরে থাকলে সেটাকে আমরা ডায়াবেটিস হিসেবে ধরি। 

ডায়াবেটিস কেন হয় তা হল দেহের অগ্নাশয় থেকে যখন ইনসুলিন নিঃসরণের পরিমাণ কম হয় এবং সময়মত ইনসুলিন উৎপন্ন হয় না তখন মানুষের ডায়াবেটিস হয়। ডায়াবেটিস হলে ঘন ঘন প্রস্রাব করা, অতিরিক্ত খিদে পাওয়া, শরীর ঝিমঝিম করা, প্রেশার বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। 

বিশেষজ্ঞ গণ, ডায়াবেটিস কে তিন প্রকারের হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন। যেমন: টাইপ ১, টাইপ ২, ও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। টাইপ ১ কে বলা হয় সম্পূর্ণ ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস, টাইপ-২ কে বলা প্রাপ্ত বয়স্কদের ডায়াবেটিস বা সাধারণ ডায়াবেটিস ও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হল এক কালীন ডায়াবেটিস। যা শুধু মায়ের পেটে বাচ্চা থাকার সময় একজন গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়। তবে তা পরবর্তীতে ভালো হয়ে যায়। 

যদি ডায়াবেটিসের তিনটি প্রকারভেদ রয়েছে এবং এই তিন ধরনের ডায়াবেটিস কেন হয় তা আপনাদের জানাবো। কারণ তিনটি ডায়াবেটিসই আমাদের সমাজে প্রচলিত। 

টাইপ ১ ডায়াবেটিস কীভাবে হয় 

টাইপ ১ ডয়াবেটিস হল একটি অটোইমিউন রোগ। যা এর ইমিউন সিস্টেম শরীরের অগ্নাশয় থেকে উৎপন্ন ইনসুলিন বা বিটা কোষ কে ধ্বংস করে দেয়। যার কারণে দেহের রক্তের ভিতরে শর্করা বা চিনির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং টাইপ ১ ডায়াবেটিস হয়। এটি শরীরে নানা বিধ সমস্যার সৃষ্টি করে। যেমন: অবসাদ, বিষণ্ণ, প্রেশার বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। 

এই ডায়াবেটিস কে শৈশব ও কৈশোরের ডয়াবেটিস ও বলে। কারণ এই ডয়াবেটিস ১৫ বছর বয়সের ছেলে-মেয়ের হয়। এই ডায়াবেটিসকে ডাক্তারি ভাষায় T1D হিসেবে ডাকা হয়। T1D হল টাইপ ২ ডায়াবেটিসের পূর্ণরুপ। অন্য দিকে T1D কে সম্পূর্ণ ভাবে ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস ও বলে থাকে। কারণ শরীরের অগ্নাশয় সম্পূর্ণ রুপে ইনসুলিন উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। তবে দুঃখের বিষয় হল এই ডয়াবেটিস নিরাময় করার জন্য এখনো কোনো ঔষধ আবিষ্কার করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। এই ডায়াবেটিস সারা বিশ্বের ৫-৬% মানুষের হয়ে থাকে। 

ফলে বাইরে থেকে ইনসুলিন নিয়ে ইনজেকশন এর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। আর এভাবেই টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীকে সারা জীবন বাইরে থেকে ইনসুলিন দিতে হয়। ছোট বয়সে ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত খাবার খাওয়া ও বেশি করে চিনি যুক্ত খাবার খাওয়া, খেলাধুলা বা হাঁটাচলা না করা, ব্যায়াম না করা ইত্যাদি এই ডায়াবেটিস শরীর বাসা বাঁধার প্রধান কারণ। আসা করি টাইপ ১ ডায়াবেটিস কেন হয় তা জানতে পেরেছেন। 

টাইপ ২ ডায়াবেটিস কীভাবে হয় 

টাইপ ২ ডায়াবেটিস হল প্রাপ্ত বয়স্কদের ডায়াবেটিস। এটা হয় মূলত শরীরের অগ্নাশয় থেকে ইনসুলিন নামের হরমোনের নিঃসরণের সমস্যার কারণে। এই ডায়াবেটিস শরীরের বাসা বাঁধলে ইনসুলিন এর নিয়মিত উৎপন্ন হয় না বা সঠিক সময়ে এর নিঃসরণ হয় না। যার কারণে মাত্রা অতিরিক্ত প্রস্রাব করা, রক্ত চাপ বেড়ে যাওয়া, অবসাদ ক্লান্তি এবং সবশেষে ডায়াবেটিস মাপতে গেলে ৭ এর উপরে থাকলেই এটি ডায়াবেটিস হিসেবে চিহ্নিত হয়। 

টাইপ ২ ডায়াবেটিস কে ডাক্তারী ভাষায় একে T2D হিসেবে ডাকা হয়। আর এটিই ডায়াবেটিস মেলাইটাস এর একটি রুপ। T2D হল টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর পূর্ণরুপ। T2D ডায়াবেটিস সাধারণত ৩৫ বছর বয়সের উপরে নারী পুরুষের হয়ে থাকে। আর এই ডায়াবেটিস ৩৫ বছরের উপরে নারী পুরুষের মাঝে দেখা যাওয়ার কারণে একে প্রাপ্ত বয়স্কদের ডায়াবেটিস হিসেবে পরিচিত। এই ডায়াবেটিস হলে নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন এই ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত পাওয়া যায় এবং জীবন উপভোগ করা যায়। 

আর টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর প্রধান প্রার্থক্য হল বয়স এবং ইনসুলিন নির্ভরতার ক্ষেত্রে। যেমন: টাইপ ১ ডায়াবেটিস ১৫ বছর বয়সীদের হয় এবং সম্পূর্ণ ইনসুলিনের উপর নির্ভর করতে হয়। আর টাইপ ২ ডায়াবেটিস ক্ষেত্রে বয়স্কদের ডায়াবেটিস ও সম্পূর্ণ ভাবে ইনসুলিনের উপর নির্ভর করতে হয় না। আপনার জানানোর সুবিধার্থে বলা হচ্ছে যে, সারা পৃথিবীতে ৯০% মানুষের টাইপ ২ ডায়াবেটিস হয়। তাই টাইপ ২ ডায়াবেটিস কে সাধারণ ডায়াবেটিস ও বলা হয়। আসা করি, টাইপ ২ ডায়াবেটিস কেন হয় তা জানতে পেরেছেন। 

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কীভাবে হয়

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হল একজন গর্ভবতী মায়ের অস্থায়ী ডায়াবেটিস। যা এক গর্ভবতী মহিলার শরীরের রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। আর যখন গর্ভবতী মহিলার রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ বেড়ে যায় তখন তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়। এই ডায়াবেটিস হলে অতিরিক্ত পানি পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব করা, প্রেশার বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা তৈরি হয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সারা পৃথিবীতে ৩-৫% গর্ভবতী নারীর হয়ে থাকে। 

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস যে কোন বয়সের মহিলার হতে পারে। যদি ও একজন মহিলার বয়স ১৭ কিংবা ১৮ হোক না কেন। কারণ গর্ভকালীন ডায়াবেটিস একজন মহিলার রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি হলে এই ডায়াবেটিস হয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইংরেজিতে বলা হয় "Gestational Diabetes"। 

আর এটি হয় যখন গর্ভবতী মায়ের ২৪ সপ্তাহ পার হয় এবং যখন দেহে হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। আর এটি ডায়াবেটিস মেলাইটাস এর একটি রুপ। এটি গর্ভবতী মহিলার দেহের ওজন যখন বৃদ্ধি পায় এবং হাঁটাচলা কম করে তখন এটি দেখা দেয়। আসা করি গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কেন হয় তা জানতে পেরেছেন। 

উপসংহার 

ডায়াবেটিস আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করার ফলে এটি হয়। যদি ও ডায়াবেটিস আমাদের শিক্ষা দেয় কীভাবে একটি সুন্দর জীবন যাপন করতে হয়। এটি আমাদের নিময় শৃঙ্খলার মধ্যে রাখে। 

তবে আমাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আগেই এটি থেকে সতর্ক হয়ে জীবন যাপন করতে হবে। পরিমিত খাবার, সময় মত খেলা ধুলা ও ব্যায়াম করাই আমাদের ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত করতে পারে। সকল ডায়াবেটিস এর মধ্যে কিশোর ডায়াবেটিস বা টাইপ ১ ডায়াবেটিস সব চেয়ে বিপদ জনক। তাই আমাদের শিশুদের যেন টাইপ ১ ডায়াবেটিস না হয় তার জন্য বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। আমাদের শিশুদের প্রতি খাবার দাবার ও খেলাধুলার উপর নজর রাখতে হবে। 

পড়ালেখার সময় পড়ালেখা করা এবং বাকি সময় খেলাধুলার পেছনে দিতে হবে। এছাড়াও টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থেকে ও বাঁচতে এর প্রতিকার অবশ্যই দরকার। 

আসা করি, আজকের এই প্রতিবেদনটি ডায়াবেটিস কেন হয় তা জানতে পেরেছেন। আজকের এই প্রতিবেদনটিতে ডায়াবেটিস কেন হয় এবং তিন ধরনের ডায়াবেটিস কেন হয় তার কারণ উল্লেখ করেছি। আসা করি আজকের এই প্রতিবেদনটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। 

শেষ কথা: আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, তাই আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। আজকের প্রতিবেদনটি ছিল ডায়াবেটিস কেন হয় এই সম্পর্কে। এই সম্পর্কে কোন তথ্য অজানা থাকলে কমেন্ট করুন। আসসালামুয়ালাইকুম ধন্যবাদ। 

Share this post with everyone

See previous post See next post
No one has commented on this post yet
Click here to comment

of this websitePrivacy Policy Accept and comment. Every comment is reviewed.

comment url