ওটিপি [বিস্তারিত জেনে নিন]

ওটিপির ছবি
ওটিপি হল এক ধরনের অস্থায়ী পাসওয়ার্ড। এর অর্থ বা পূর্ণরুপ হল অয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (one time password)। বাংলায় যাকে বলে এককালীন পাসওয়ার্ড। যে পাসওয়ার্ডটি এক বার মাত্র ব্যবহার করা যায়। এটি সাধারণত একটি ডিজিটাল নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। যেনো হ্যাকার মিথ্যা তথ্য দিয়ে সঠিক গ্ৰাহকের কারো অর্থ সম্পদ বা তথ্য হাতিয়ে নিতে না পারে। 

এই পাসওয়ার্ডটি সাধারণত ৪,৬,ও ৮ সংখ্যার হয়ে থাকে। তবে পাসওয়ার্ডটি কত সংখ্যার হবে তা সম্পূর্ণ কতৃপক্ষ, অ্যাপস ও ওয়েবসাইট এর মালিকের একান্ত বিষয়। যদিও এটি একটি সিকিউরিটি কোড হয়ে থাকে এবং এর মাধ্যমে সেহেতু নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। তাই খুব ভালো অয়ান টাইম পাসওয়ার্ড ব্যবহার ভালো। 

অতএব একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন এবং লগইন এর কাজ করার ক্ষেত্রে আপনার মোবাইল ফোনে যদি এই ধরনের পাসওয়ার্ড আসে। তাহলে তা কাউকে না জানানো এবং খুব গোপনীয়তার সাথে নম্বরটি লিখা বা এলাও করা। এই পাসওয়ার্ডটি একজন সঠিক প্রাপকের কাছে যায়। এটা এক ধরনের পোপন পাসওয়ার্ড হয়ে থাকে। যা শুধু মাত্র ব্যবহারকারী বা অরিজিনাল মালিক এস এম এস আকারে পেয়ে থাকে। 

উদাহরণ: চলুন ওটিপি সম্পর্কে সহজ একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই এবং নিখুঁতভাবে এক কালীন পাসওয়ার্ড সম্পর্কে জানতে পারবেন। একবার ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড গুলো সাধারনত আমাদের দেশে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় এর মতো অনলাইন ব্যাংকিং এর এ্যাপসে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও এটি অভিজাত ওয়েবসাইট ও এ্যাপসে গ্ৰাহকের তথ্য ভেরিফিকেশন করার জন্য এই ধরনের এক কালীন পাসওয়ার্ড গুলো OTP এস এম এস এর মাধ্যমে যাচাই করে থাকে। এটি দেখা যায়, কোন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন এবং লগইন করলে এই ধরনের চার, ছয় ও আট সংখ্যার কোড আসে। 

সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল আমরা যখন অ্যামাজন ওয়েবসাইটে একাউন্ট খোলার সময় মোবাইল নাম্বার দিলে সেই মোবাইল নম্বরে একটি মেসেজ আসে সেখানে এই ধরনের এক কালীন কোড দেখা যায়। 

এটি করা হয় মূলত একটি নাম্বার চালু আছে কিনা এবং যে মোবাইলে একাউন্ট খোলা হচ্ছে বা লগইন করা হচ্ছে সেই বৃবহারকারী আসল। অনেক ওয়েবসাইটে ও এ্যাপসে মোবাইল নাম্বার ও ইমেইল দুই মাধ্যমে ওটিপি কোড রিসিভ করার অপসন থাকে। তবে ইমেইল ঠিকানা যাচাই এর চেয়ে মোবাইলে এই ধরনের কোড পাঠানো নিরাপদ এবং সঠিক ব্যবহারকারী কাছে এই কোড যায়। 

তাই এটি ইমেল এর চেয়ে ও বেশি উপযোগী। কারণ মোবাইলে ফোনে উক্ত একাউন্টের সিম থাকলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে এই পাসওয়ার্ডটি আপনাআপনি বসে যায়। যেমন উপায় এ্যাপস এ একাউন্ট খুললে otp পাসওয়ার্ডটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে বসে যায়। অন্য দিকে ইমেইল এর মাধ্যমে এটি করা খুবই মুসকিল এবং গুগলের অনুমতির প্রয়োজন পড়তে পারে। তাই মোবাইলে এই ধরনের কোড আসলে নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি নিশ্চিত হয়। 

OTP এর কাজ কি 

অন টাইম পাসওয়ার্ড এর কাজ হল সঠিক তথ্য নিশ্চিত করণ, সঠিক ব্যবহারকারী কে চিহ্নিত করা এবং সকল গ্ৰাহকের সম্পদ ও তথ্য সুরক্ষিত রাখা। কারণ অনেক প্রতারণাকারী তথ্য হাতিয়ে নেয় এবং ভূল তথ্য দিয়ে গ্ৰাহকের আর্থিক ক্ষতি সাধন করে। তবে এটির কাজ কাজ পিন, পাসওয়ার্ড ব্যবহারের দিক দিয়ে আলাদা। কারণ otp নম্বরটি এক বার ব্যবহার করা হয় এবং আপনার একাউন্টের পিন ও পাসওয়ার্ড বার বার ব্যবহার করতে হয়। যখন আপনার একাউন্ট আপনি লগইন করবেন তখন আপনার একাউন্টে দেওয়া পাসওয়ার্ড বা পিন ব্যবহার করতে হবে। কিভাবে এটি ব্যবহার করবেন দেখে নিন:
ওটিপি যেভাবে ব্যবহার করবেন এর ছবি

কীভাবে কাজ করে 

ওটিপি সুনির্দিষ্ট কিছু প্রমাণ নেওয়ার জন্য কাজ করে। এই জন্য এই অস্থায়ী পাসওয়ার্ডটি মোট চারটি প্রসেস এর মধ্য দিয়ে তাঁর কাজটি সম্পন্ন করে থাকে। যে ধাপ গুলো অনুসরণ করা না করলে এটি তার কাজ করতে পারবেন না। আর আপনি যদি জানতে চান কীভাবে কাজ করে তবে আসুন আপনাকে জানিয়ে দেয়। 
ওটিপি যেভাবে কাজ করে এর ছবি

OTP তৈরি হওয়া: এ্যাপস, ওয়েবসাইটে থাকা প্রোগ্ৰামিং ল্যানগুয়েজ স্বয়ংক্রিয় একটি এক কালীন পাসওয়ার্ড তৈরি করবে। 
গ্ৰাহকের কাছে এস এম এস আসা: যখন একজন ব্যবহারকারী একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন এবং লগইন করার সময় এই এই ধরনের মেসেজ নোটিফিকেশন আকারে আসে। যার কাছে মোবাইল আছে তিনিই শুধু এই কোড দেখতে পারেন। অর্থাৎ একাউন্ট খোলা এবং লগইন করার আগে আপনার মোবাইলে উক্ত সিমের নাম্বার থাকতে হবে। সহজ কথায়, একটি এ্যাকটিভ মোবাইল ফোন নাম্বার লাগবে। 
নম্বরটিকে allow বা অস্থায়ী পাসওয়ার্ডটিকে লিখা: অবশ্যই অন টাইম পাসওয়ার্ড আসার পর allow বাটনে ক্লিক করতে হবে বা যে পাসওয়ার্ডটি নোটিফিকেশন আকারে আপনার মোবাইলে আসবে সেটা লিখতে হবে।
সবশেষে কনফার্ম বাটনে ক্লিক করা: সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ওকে বাটনে ক্লিক করা। কাউকে এই পাসওয়ার্ডটি দেবেন না যদি আপনি বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় এর এই ধরনের ওটিপি কোড পান। মনে রাখবেন, এই পাসওয়ার্ড দ্বিতীয় বার ব্যবহার করা যাবে না। এক বার ব্যবহার করতে হবে। 

সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ 

ওটিপি যদিও এটি একজন গ্ৰাহকের একাউন্ট কে সুরক্ষা দিতে কাজ করে। তবুও এটির ও রয়েছে কিছু খারাপ দিক। যার ফলে অনেক ব্যবহারকারী এটি পছন্দ করে না। তাহলে চলুন এর উপকারী ও অপকারী দিক গুলো জেনে নেই। যদি ও এর অসুবিধা সমূহ জেনে ঠিক করা একমাত্র কর্তৃপক্ষের কাজ। 

সুবিধা সমুহ 

দূর্বল পাসওয়ার্ড প্রতিরোধ: ব্যবহারকারীর দূর্বল পিন বা পাসওয়ার্ড যদি ব্যবহার করে। তবে একাউন্ট হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯% বেড়ে যায়। তবে এই সিস্টেম থাকার দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন এবং লগইন করার সময় একটি নোটিফিকেশন কোড আসে। যা শুধু সঠিক গ্ৰাহকের মোবাইলে আসে। তাই কেউ আপনার একাউন্ট ক্ষতি করার স্বার্থে পিন বা পাসওয়ার্ড জেনে নিলেও এই অন টাইম পাসওয়ার্ড প্রযুক্তি আপনার একাউন্টে অন্য কাউকে ঢুকতে বাধা দিবে এবং লগইন করতে পারবে না। এই ধরনের ব্যবস্থা দেখা যায় অনলাইন ব্যাংকিং এ্যাপস গুলোতে যেমন: বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়। এদের পিন গুলো সাধারনত 12345, 1759 ও 56329 হয়ে থাকে। তবে এই সকল এ্যাপস গুলো অন টাইম পাসওয়ার্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করে। যার ফলে তথ্য থাকে সেভ। 

একাউন্টের সুরক্ষা বাড়ায়: আমরা জানি যে, এই পাসওয়ার্ডটি এক বার ব্যবহার করা যায়। যা শুধু এই পাসওয়ার্ড গ্ৰাহক রিসিভ করে, ওকে বাটনে ক্লিক করার পর আর এটির কার্যক্ষমতা থাকে না। ফলে এই কোড জেনে অন্য কেউ দ্বিতীয় বার ব্যবহার করতে পারবে না। আবার যদি কেউ কারো পাসওয়ার্ড জেনে কোন ধরনের লগইন করার চেষ্টা করে তবে গ্ৰাহক যেনো সেই otp কোড না দিলেই একাউন্ট সেভ থাকবে। আপনাদের জানানোর সুবিধার্থে বলা হচ্ছে যে, কোন এ্যাপস কতৃপক্ষ কখনো এই ওটিপি কোড জানতে চায় না। তাই কেউ আপনার কাছে ফোন দিয়ে একাউন্টের সমস্যার কারণে এই ধরনের কোড চাইলে সরাসরি ফোন কেটে দেওয়া এবং একাউন্ট সম্পর্কিত কোন তথ্য না দেওয়া। কারণ অন টাইম পাসওয়ার্ডটি শুধু একাউন্টের সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে। 

সুবিধাজনক ব্যবহার: এই পাসওয়ার্ডটি এক বার মাত্র ব্যবহার করতে হয়। ফলে বার বার ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না এবং পাসওয়ার্ডটি মনে রাখার ও প্রয়োজন নেই। যখন মোবাইলে এই ধরনের নোটিফিকেশন আসে তখন কোড টুকু কপি করে লিখে দিলেই হয়। ফলে OTP নাম্বার ব্যবহার করে অনেক সূবিধা পাওয়া যায়। 

অসুবিধা সমূহ 

দূবল নেটওয়ার্ক কানেকশন: আমরা সকলেই অবগত যে বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক কানেকশন মোটেও ভালো নয়। অন্য দেশে যেখানে সকল জায়গায় 5G, 6G নেটওয়ার্কের সংবলিত ভালো মানের নেট পাওয়া সেখানে বাংলাদেশের অবস্থা অনেক খারাপ। এমন ও অনেক দুর্গম এলাকা থেকে আছে যেখানে নেটওয়ার্ক পাওয়া দুষ্কর। আর ওটিপি কোড একটি ফোনে আসার জন্য ভালো একটি নেটওয়ার্ক কানেকশন প্রয়োজন। 

কারণ নেটওয়ার্ক কানেকশন দূবল হলে দ্বিতীয় বার কোড পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে এবং সেই সময় দেখা গেল দুটি কোড একবারে চলে এসেছে। এক্ষেত্রে গ্ৰাহক দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে পারে। আর অন টাইম পাসওয়ার্ড যেহেতু একবার ব্যবহার করা যায়। তাই এটিকে দ্বিতীয় বার ব্যবহার করলে কাজ হবে না। ফলে গ্ৰাহকের অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয় এবং ঐ সেবা নিতে অনাগ্ৰহ দেখায়। 

অতিরিক্ত পাসওয়ার্ডের ব্যবহার: একজন ব্যবহারকারীর পিন বা পাসওয়ার্ড একাউন্টে ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া ও উপরি হিসেবে ওটিপি কোড ব্যবহার করতে হলে আবার একটু সময় নিয়ে এই কোড লিখতে হয়। যা একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

উপসংহার 

আমরা এতক্ষণ ধরে, ওটিপি সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করেছি। এটি সম্পর্কে ধারণা সহ সুবিধা ও অসুবিধা জেনেছি। তবে শেষ কথা হল এটি আমাদের সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে হবে আমাদের একাউন্ট কে সুরক্ষা দিতে এবং এটি যেহেতু একটি গোপন কোড তাই এটি অন্য কাউকে না জানানো। যদি আমরা ওটিপি কোড অন্য কাউকে বলে দেয় তবে আমাদের একাউন্টের এক্সেস পেয়ে যাবে এবং আমাদের মূল্যবান তথ্য ও সেবা চুরি করে নেবে। এর ফলে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো এবং আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির বিরম্বনায় পড়ব। তাই আসুন আমরা সতর্ক হই। সঠিক ভাবে তথ্য ব্যবহার করি। 

শেষ কথা: আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। আসা করছি আজকের এই প্রতিবেদনটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাই আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন। আসসালামুয়ালাইকুম, ধন্যবাদ। 

Share this post with everyone

See previous post See next post
No one has commented on this post yet
Click here to comment

of this websitePrivacy Policy Accept and comment. Every comment is reviewed.

comment url